রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভার দেবীপুর এলাকার পারুল বেগম একসময় ছিলেন পৌরসভার নির্বাচিত কাউন্সিলর। নারী উন্নয়ন, সমাজসেবা আর স্থানীয় জনগণের পাশে থেকে কাজ করার জন্য তিনি তখন ছিলেন পরিচিত ও প্রিয় মুখ। সময়ের পালাবদলে এখন তার পরিচয় ভিন্ন। ক্ষমতার চেয়ার নেই, তবুও আছেন মানুষের মাঝে—এইবার চায়ের কাপ হাতে।
আজ তিনি নিজ হাতে চা বানিয়ে দোকান চালান। সঙ্গী তার স্বামী আবু তাহের, যিনি দোকান সামলাতে প্রতিদিন সাহায্য করেন। এ দম্পতির সংসারে চার সন্তান—দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেরা এখনো লেখাপড়া করছে। মা-বাবার সংগ্রাম দেখে তারাও শিখছে আত্মনির্ভরতা।
পারুল বলেন, “আমি দুর্গাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলাম। মানুষের সেবা করেছি গর্ব নিয়ে। আজ চা বিক্রি করি, সেটাও গর্বের কাজ। কারণ আমরা কারও মুখাপেক্ষী নই—নিজের পরিশ্রমে চলি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার স্বামী পাশে না থাকলে এতদূর আসা হতো না। আমরা একসাথে দোকান চালাই, সংসার চালাই, ছেলেদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
দেবীপুরের এক কোণে ছোট্ট এই চায়ের দোকানটি এখন শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি হয়ে উঠেছে সংগ্রাম আর আত্মমর্যাদার প্রতীক। যারা এখানে চা খেতে আসেন, তারা শুধু স্বাদ খোঁজেন না—খোঁজেন প্রেরণাও।
একজন গ্রাহক বলেন, “এই দোকানে চা খেলে মনে হয় সাহসের চা খাচ্ছি। পারুল আপার গল্প শুনে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়।”
স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, “তিনি আমাদের দেখিয়েছেন, ঘরের নারীও সমাজের মুখ হতে পারে।”
পারুলের ইচ্ছে, ভবিষ্যতে তার দোকানটি বড় করবেন। তার স্বপ্ন, এই দোকানে আরও কিছু দরিদ্র নারীকে কাজের সুযোগ দেবেন, যাতে তারাও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
এই সংগ্রামী নারীর গল্প শুধু দেবীপুর নয়, সারা দেশের নারীদের জন্য এক বাস্তব অনুপ্রেরণা। সময় বদলেছে, কিন্তু পারুল বেগমের সাহস, আত্মবিশ্বাস ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।