সকল মেনু

লালপুর–বাগাতিপাড়ায় বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি, দুই দিনেই চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার (আংশিক) বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। টানা দুই দিন ধরে চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।

লালপুর জোনাল অফিস (এনপিবিএস-২) সূত্রে জানা গেছে, ১৪ এপ্রিল পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু ঈশ্বরদী গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১২ মেগাওয়াট, ফলে ১৩ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়। একই দিনে অফ-পিক সময়ে চাহিদা ছিল ২১ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১০ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং করতে হয়েছে ১১ মেগাওয়াট।

পরদিন ১৫ এপ্রিলেও একই চিত্র দেখা যায়। পিক সময়ে চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট থাকলেও সরবরাহ ছিল ১২ মেগাওয়াট, ফলে ১৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। অফ-পিক সময়ে সরবরাহ আরও কমে ৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে, যেখানে চাহিদা ছিল ২১ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ১২ মেগাওয়াটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে একাধিকবার এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন তারা। গরমের তীব্রতায় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ব্যাঘাতের কথা জানিয়ে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দোকানপাট ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

লালপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বলেন, ঈশ্বরদী গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রীষ্মের শুরুতেই এমন বিদ্যুৎ ঘাটতি ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top