‘২৪ এর গৌরবোজ্জ্বল বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রায় সব ক্যাডারে যোগ্য কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়েছেন; কোনো কোনো ক্যাডারে একাধিক টায়ারে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মৃত কর্মকর্তারাও আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক কর্মকর্তাগণ ১২ বছর পর্যন্ত পদোন্নতি বঞ্চিত। এই দায় কার? সুপারনিউমারারি পদসৃজন করে যোগ্য সকলের পদোন্নতি দিতে না পারার ব্যর্থতা কার ঘাড়ে বর্তাবে? কেন হয় না শিক্ষা ক্যাডারে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি?
“অন্য ক্যাডারগুলোর মতোই শিক্ষা ক্যাডারেও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে বৈষম্যের চক্র ভেঙে শিক্ষায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।”
রাষ্ট্রের শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাগণ শিক্ষা ক্যাডারের সঙ্গে বরারবের মতোই বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। অন্যান্য ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচ ২০২৩ সালে এবং ৩৭তম ব্যাচ ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সহযোগী অধ্যাপক, ব্যাংকাররা ৫ম ও ৬ষ্ঠ গ্রেডে, এমনকি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও ৬ষ্ঠ গ্রেডে পৌঁছে গেছেন। কিছুদিন আগেই বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
অথচ শিক্ষা ক্যাডারে ৫ বছরের পদোন্নতি ১২তম বছরে এসেও কেন হয় না? নিয়মিত পদোন্নতি, পদ সৃষ্টি ও আপগ্রেডেশন করে নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
শিক্ষা ক্যাডারে ৩২তম থেকে ৩৭তম ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ প্রভাষক পদোন্নতির সব যোগ্যতা অর্জন করেও এক যুগ পর্যন্ত বঞ্চিত রয়েছেন। নিয়মিত পদোন্নতি এখন শিক্ষা ক্যাডারে “সোনার পাথরবাটিতে” পরিণত হয়েছে।
শুধু পদোন্নতি নয়— কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় কলেজ জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের ক্যাডারে আত্তীকরণ, অধিদপ্তরগুলোকে বিভাজনের মাধ্যমে পদ ও পরিধি সংকোচন, আপগ্রেডেশন, গ্রেড-২/৩-এ পদসৃজন এবং সাত কলেজ ইস্যুসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ক্যাডার। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছেন কনিষ্ঠ সদস্য অর্থাৎ প্রভাষকবৃন্দ।
আত্তীকৃত শিক্ষক ও প্রদর্শকদের অদ্ভুতভাবে শিক্ষা ক্যাডারে পার্শ্বপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু উপরের টায়ারে পদ সৃষ্টি ও পদ আপগ্রেডেশন না করায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে শূন্য পদের সংকট সৃষ্টি হয় যার নেতিবাচক ফল ভোগ করছে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যাডার কর্মকর্তারা ; পাচ্ছেন না যথাসময়ে পদোন্নতি। কিন্তু কেন?
লাখো প্রতিযোগীকে টপকে মেধার ভিত্তিতে মহামন্য রাষ্ট্রপতির আদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত আমরা শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ ৫ বছরের পদোন্নতি আমরা ১২ বছরেও পাচ্ছি না! এটি শুধু বৈষম্য নয়, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করারও অপপ্রয়াস।
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি—সরকার পরিবর্তনের পর পদ্মা-মেঘনায় হাজারো কিউসেক জল গড়িয়েছে, শত শত আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্র থেকে আলো এসে পৃথিবীতে পৌঁছেছে; কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি ফিট লিস্ট থেকে জিও পর্যন্ত পৌঁছায়নি!
ইতোপূর্বে আমরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ গত ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ মাউশিতে মানববন্ধন, অবস্থান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ০২ নভেম্বরের মাঝে ডিপিসি শুরু এবং ১২ নভেম্বরের মাঝে পদোন্নতি জিও জারি করার দাবি করেছিলাম।
আমাদের দাবি আদায়ের একমাত্র মাধ্যম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা অ্যাসোসিয়েশন, আমাদের কর্মসূচির সাথে তারা সংহতি পোষণ করেছেন।
আজ ৯ নভেম্বর, এখনও জিও জারি হয়নি।আমরা এই অচলাবস্থার অবসান জানাই। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।
দাবিসমূহ-
১. অনতিবিলম্বে পদোন্নতির DPC (Departmental Promotion Committee) সভা সম্পন্ন করতে হবে।
২. ১২ নভেম্বরের মধ্যে ৩৭তম ব্যাচ পর্যন্ত সকল পদোন্নতিবঞ্চিত প্রভাষকের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির G.O. জারি করতে হবে।
৩. ৩৭ ব্যাচ পর্যন্ত যোগ্য সকলের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে সুপারনিউমারারি পদসৃজন করতে হবে।
৪. পদোন্নতি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুততম সময়ে পদ-আপগ্রেডেশন করতে হবে।
উল্লিখিত দাবিগুলো ১২/১১/২০২৫ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়িত না হলে ১৬/১১/২০২৫ থেকে যোগ্য সকলের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির জিও না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান শুরু হবে এবং আমরা No Promotion, No Work” এর মতো কঠোর কর্মসূচিতে চলে যেতে বাধ্য হবো।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।