সকল মেনু

দেশের একমাত্র সরকারি স্লিপার কারখানা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগের অধীনস্থ দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানা হচ্ছে- সুনামগঞ্জের শিল্পাঞ্চল খ্যাত ছাতক উপজেলার “ছাতক কংক্রিট স্লিপার কারখানা”। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অবহেলা, জনবল, কাঁচামাল সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ থাকে। কোনও কোনও বছর একদিনের জন্যও চলে না কারখানাটি।

ছাতক রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত দুবার কংক্রিট স্লিপার কারখানাটি চালু হয়েছে। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কারখানাটি চালু হয়েও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি ফের বন্ধ হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের মে মাসে কারখানাটি চালু হয়ে কাঁচামালের অভাবজনিত কারনে ফের বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত কয়েকদিন ধরে কারখানাটি ফের চালু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাতক বাজার রেলওয়েতে গুরুত্বপূর্ণ পদসহ বেশীর ভাগ পদই রয়েছে শূন্য, পদগুলো হচ্ছে- ওয়েল্ডার গ্রেড-১, লাইনম্যান কাম ওয়্যার গ্রেড-২, সহকারী ল্যাবরেটরি, গাড়ী চালক, টুলকিপার, ট্রাভারসার অপারেটর, স্টোরটেন্ডল, ওয়েল্ডার, কাস্টিং মেশিন অপারেটর, ম্যাসিনিস্ট, মেকানিক, কংক্রিট মিক্সার অপারেটর, ডিমোল্ডিং অপারেটর, সহকারি ক্রাশার অপারেটর, সহকারী ল্যাবরেটরি হেলপার, ওয়েল্ডার হেলপার, টেনশনিং হেলপার, নিরাপত্তা প্রহরী, খালাসী, পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে জনবল সংকট। দেশের একমাত্র সরকারি এ স্লিপার কারখানাটি বার বার উৎপাদনের চেষ্টা করেও জনবল সংকটসহ নানা সমস্যার কারনে উঠে দাঁড়াতে পারছে না দেশের একমাত্র এ ক্রংক্রিট স্লিপার কারখানাটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২৭ অক্টোবর দৈনিক ২শত ৬৪টি স্লিপার উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে ছাতকে কংক্রিট স্লিপার প্লান্টের যাত্রা শুরু হয়। কাঠের তৈরি স্লিপারের স্থায়িত্ব গড়ে ১০ বছর। অপরদিকে কংক্রিট স্লিপারের স্থায়িত্ব ৫০ বছর। তৎকালীন সরকার দেশের রেললাইনকে, মজবুত, টেকসই ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ছাতকে দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানাটি স্থাপন করে।

কারখানাটি উৎপাদন শুরুর পর থেকে সচল থাকলেও কর্তৃপক্ষীয় অবহেলা, উদাসীনতা এবং নানা অনিয়মের ফলে, ২০০০ সালে কারখানাটিতে দেখা দেয় অশনি সংকেত। এরপর ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২০ সালে একাধিকবার কারখানাটি চালু হলেও এর স্থায়িত্ব খুব বেশী দির্ঘায়িত হয় নি। যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামাল সংকটের কারণে বছরের বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব ও দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার তৈরির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্টান, ছাতক ”কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট”। বর্তমানে ছাতক রেলওয়ে ও কংক্রিট স্লিপার কারখানাটি প্রায় কর্মকর্তা শূন্য। তবে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারাও বেশিরভাগ সময়ই থাকেন রাজধানী ঢাকা ও সিলেটে।

অভিযোগ রয়েছে, কারখানার ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ (ফোরম্যান) আসাদুজ্জামান খান যোগদান করার পর থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে না থেকেই সরকারি বেতনভাতাদি ভোগ করছেন।

প্লান্টের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য) জাকির হোসেন খান রয়েছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠেছে তিনি মাসে একবার এসে রেলওয়ের বাংলোতে রাত্রিযাপন করে চলে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী এ প্রতিবেদককে বলেন, এমনিতেই কারখানাটিতে রয়েছে প্রচুর জনবল সংকট। এদিকে যারা বর্তমানে দায়িত্বশীল রয়েছেন তারা বিভিন্ন অজুহাতে এখানে শুধুমাত্র কাগজকলমে হাজিরা দিয়ে চলে যান। কিন্তু তারা ঠিকই রেলওয়ের বেতন-ভাতাদিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন নিয়মিত।

অভিযুক্ত, ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ (ফোরম্যান) আসাদুজ্জামান খান ও ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) (ফোরম্যান) আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের সঙ্গে যোযোগ করা সম্ভব হয় নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমানে ছাতকবাজার রেলওয়েতে কর্মরত একজন কর্মকর্তা ওই দুই কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে, এ প্রতিবেদককে বলেন- এটি তো মেশিনারিজ বিষয়, মাঝে মধ্যে বিকল হয়, আবার আমরা তা মেরামত করি। জনবল, কাঁচামাল ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারনেই মূলত কারখানাটি বন্ধ হয়।

ছাতক কংক্রিট স্লিপার প্লান্টটি কিছুদিন পূর্বে বন্ধ রয়েছিল স্বীকার কওে, ছাতকবাজার রেলওয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাংলাদেশ রেলওয়ে সিলেটের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আজমাঈন মাহতাব ভোরের কাগককে বলেন, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে প্লান্টটি বন্ধ ছিল, সে সমস্যা সমাধান করে বর্তমানে কারখানাটি চালু রয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ ঢাকা (ছাতক বাজারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা) নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব ভোরের বলেন, প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে কারখানাটিতে বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়েছে। জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, জনবল সংকট নিরসনে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top