সকল মেনু

সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মানববন্ধনের অভিযোগ

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকায় জেলা জজ কোর্টের ড্রাইভার মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ এনে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে মানহানিক উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠরা।

ঘটনার বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলামের একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বসতবাড়ির পুরনো সম্পত্তি নিয়ে সাইফুল ইসলামের সৎ ভাই ও বোনদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক বিষয়। এখন মানববন্ধনের নামে একতরফাভাবে সাইফুলের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে।”

সাইফুল ইসলামের এক সহকর্মী জানান, “জজ আদালতের একটি দায়িত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত একজন চালকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে প্রচার করা খুবই দুঃখজনক। তার বিরুদ্ধে কখনও অফিসিয়ালি কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক বা পারিবারিক বিভাজনের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, কিছুদিন আগে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের পক্ষে রায় গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই পক্ষ মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করে।

স্থানীয় মসজিদ কমিটির একজন প্রবীণ সদস্য বলেন, “এই পরিবারে আগে থেকেই নানা বিরোধ ছিল। এখন আদালতের বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সাইফুলের চরিত্রহনন চেষ্টা হচ্ছে। কোনো পক্ষের বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়।”

এ বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি একটি পুরাতন পারিবারিক বিরোধ, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অথচ আদালতের রায়ের আগেই আমার সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করতে কিছু মানুষ অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী, দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কখনও কোনো দুর্নীতি বা অনৈতিক কাজে জড়িত হইনি। অথচ এখন ষড়যন্ত্র করে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সত্যের জয় হবেই এবং আইন অনুযায়ী প্রকৃত বিচার হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মানববন্ধনের নামে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা মূলত আদালতের প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করেন।”

স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিবারিক বিরোধ আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা না করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে চাপে ফেলার কৌশল গ্রহণ করা ন্যায়বিচার পরিপন্থী। সত্য উদঘাটনে উভয়পক্ষের বক্তব্য যাচাই ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা কাম্য।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top