জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৩০ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশিকুর রহমান। গত ৪ মে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তিনি এ মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় বলা হয়, গত বছরের ৩ আগস্ট সরকার পতনের দাবিতে চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তারা একটি সমাবেশ করেন। সেখানে তারা আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দেন। পরদিন, ৪ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আন্দোলনকারীদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা গুলি চালায়, ককটেল ফাটায় এবং আগুন দিয়ে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এতে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভাঙচুর করা হয়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ১৩০ জনের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাকিবুল হাসান রনি, সহ-সভাপতি মাহমুদুল আহসান লিমন, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিব, বর্তমান সভাপতি আল মাহমুদ কায়েস, সাধারণ সম্পাদক রিয়েল সরকারসহ ছাত্রলীগের বহু সাবেক ও বর্তমান নেতা।
এ ছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক জোবায়ের হোসেন, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল হালিম, সাবেক রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবির, সাবেক প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মামলায় আরও প্রায় ৭০-৮০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ওপর এমন হামলা বিশ্ববিদ্যালয় চেতনার পরিপন্থী এবং এর সঠিক তদন্ত ও বিচার প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।