সকল মেনু

সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি বিএফইউজের সহকারী মহাসচিবের

সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ও রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন। বৃহস্পতিবার (১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী নগরীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।
নগরীর রানিবাজার এলাকায় এক রেস্তোরাঁয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) এ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরইউজের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়াল। অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ও আরইউজের সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন। সভা সঞ্চালনা করেন আরইউজের যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক।
এতে বক্তব্য রাখেন আরইউজের কোষাধ্যক্ষ তৌফিক ইমাম পান্না, স্থানীয় দৈনিক নতুন প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক সোহেল মাহবুব, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহিব্বুল আরেফিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ডালিম হোসেন শান্ত, আরইউজের সিনিয়র সদস্য জিয়াউল কবির স্বপন, রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশন, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সর্বশেষ আমরা স্বাধীন হয়েছি। এই স্বাধীনতার ৯ মাস হয়ে গেলো, কিন্তু আমরা কী অধিকার পাচ্ছি? কীভাবে সাংবাদিকদের অধিকার আদায় হবে? আর্তনাদ কার কাছে পেশ হবে? আমাদেরকে অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
তারা বলেন, আমাদের শ্রম জিম্মি। আমাদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে যাব, মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাব। বৈষম্য নিরসন হোক, সেই দাবি জানাই।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে বিগত সময়ে বঞ্চিত ছিলাম। আমাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকলেও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। সাংবািক নেতারা আমাদের বিষয়গুলো নিয়ে যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদী।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, ১৮৮৬ সালে আমেরিকার সিকাগোতে কয়েকজন শ্রমিক জীবন দিয়েছিলেন। দিনটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হয়েছে, পালন হচ্ছে। আমাদের দেশে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অনেক শ্রমিক ও সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন। দেশ থেকে ফ্যাসিস্ট, স্বৈরতন্ত্র ও জালিম সরকারকে বিদায় করতে এতগুলো প্রাণ গেছে। আমাদের প্রাণের মূল্য অনেক বেশি। সেজন্য ৩৬ জুলাইকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। যেরকম মাতৃভাষা দিবস ও শ্রমিক দিবসের স্বীকৃতি আছে, সেরকম ৩৬ জুলাইকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। সেই লক্ষ্যে এখন থেকে কাজ করে যাওয়া দরকার। যেসব জায়গায় প্রস্তাবনা দেওয়ার সুযোগ আছে, প্রস্তাবনা পাঠাতে হবে।
সিনিয়র সাংবাদিকরা বলেন, আমরা শ্রমিকের বাইরে কেউ? আমরাও শ্রমিক। আমরা সংবাদ শ্রমিক। সংবাদ দেশ দুনিয়ায় প্রচারের কাজ করছি। আমাদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যেতে হবে।
অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ও আরইউজে সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, ১৮৮৬ সালে সিকাগো শহরের ঘটনা গোটা পৃথিবীর ইতিহাসে লেখা আছে। এটা ঐতিহাসিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা নিজেরাও শ্রমিক। আমরা কোথায় কোথায় কোন কোন অধিকার হারাচ্ছি, এগুলো আমরা নিজেরাও জানি। হাতেগোনা কিছু পত্রিকা-টেলিভিশন বেতন দেয়। বেশিরভাগই বেতন দেয় না। যদিও কিছুটা সত্যতা আছে, কিছুটা রিউমার আছে। সাংবাদিক নিয়োগে ক্রাইটেরিয়া মানা হয় না। যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি এবং সাংবাদিকদের বেতন নুন্যতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে, সেই দাবি জানাই।
তিনি বলেন, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু ওয়েজবোর্ডের আওতায় ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা আসেন না। ঢাকায় যারা সাংবাদিকতা করেন, নির্দিষ্ট বিটে তারা কাজ করেন। কিন্তু মফস্বলের সাংবাদিকদের সব বিটে কাজ করতে হয়। ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা অলরাউন্ডার হওয়ার পরও তাদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেওয়া হয় না। যে যে স্ট্যাটাসের সাংবাদিক, ব্যুরো চিফ, প্রতিনিধি বা স্টাফ রিপোর্টার, সে অনুযায়ী রাজশাহীতেও বেতন পাওয়া উচিত। সেই দাবিটিও করছি। এছাড়া সাংবাদিকদের শারিরীক, মানসিক ও আর্থিক সুরক্ষার দাবি করছি সরকারের কাছে। এ সময় বন্ধ সব মিডিয়া খুলে দিয়ে বকেয়া সকল বেতন পরিশোধের দাবিও জানান সিনিয়র এই সাংবাদিক।
সভাপতির বক্তব্যে আরইউজের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়াল বলেন, স্বৈরশাসনের আমলে প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বর্তমানে আমরা একটা সম্ভাবনার জায়গায় এসেছি। যেভাবে কাজে লাগালে ভাল ভবিষ্যৎ হবে, সেই চেষ্টা করতে হবে। সাংবাদিকতাকে শক্তিশালী ও ভাল অবস্থানে কীভাবে নিয়ে যেতে পারি, সেই প্রচেষ্টা চালানো আমাদের মূখ্য উদ্দেশ্য। সাংবাদিকতা সুশিক্ষিত দায়িত্বশীলদের পেশা, বিশ্বব্যাপী মর্যাদাপূর্ণ পেশা। আমাদের বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যতক্ষণ আমরা এক না হচ্ছি, ঐক্যবদ্ধ না হচ্ছি, ততক্ষণ দাবি আদায় হবে না। দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সভায় রাজশাহী প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক ও আরইউজের সদস্য আমানুল্লাহ আমান, নয়া দিগন্ত ডিজিটালের প্রধান যুবরাজ ফয়সাল, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সাইদ রনি, আব্দুল হাকিম, সিনিয়র সাংবাদিক মেসবাউল হক দিনারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top