সকল মেনু

সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ি এখন কিন্ডারগার্টেন স্কুল

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কৃতী সন্তান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি এখন কিন্ডারগার্টেন স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভৈরবপুর উত্তরপাড়ায় অবস্থিত ওই বাড়ির নিচতলায় চলছে সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কার্যক্রম। তবে দোতলা এখনো ভাড়া দেওয়া হয়নি।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির নিচতলায় শ্রেণিকক্ষে পাঠ চলছে। পরে জানা যায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ নিচতলা ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে পাঁচবার কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁর একমাত্র ছেলে নাজমুল হাসান পাপন টানা চারবার এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক সরকারের পতনের পর দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দেয়। সেই সময় দুর্বৃত্তরা জিল্লুর রহমানের ভৈরবের বাসভবনে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এরপর প্রায় এক বছর ধরে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
মূলত জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই ঢাকার গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও সেখানে থাকতেন। ভৈরবের বাসভবনটি দেখাশোনা করতেন একজন কেয়ারটেকার। ‘আইভি ভবন’ নামে পরিচিত এই বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছিল তাঁর স্ত্রী প্রয়াত আইভি রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।
দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকার পর সম্প্রতি এলাকাবাসী লক্ষ্য করেন, ওই বাসভবনে চলছে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আলমগীর আলম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। স্কুলটির মালিক ও ভৈরবের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যক্ষ আবদুল বাসেত বলেন,
‘আমি ১৯৮৭ সালে সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা করি। তখন জিল্লুর রহমানের চাচাতো ভাই তারা মিয়া আমার পার্টনার ছিলেন। এখন তার ছেলে নইম মোল্লা আমার সঙ্গে পার্টনার হিসেবে আছেন। নইম ওয়ারিশদের সঙ্গে কথা বলে বাসাটি ভাড়ার ব্যবস্থা করে। ৫ আগস্টের ঘটনার পর বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। আমি তা সংস্কার করেছি, খরচের টাকা ভাড়া থেকে কর্তন করা হবে এমন চুক্তিতেই নিচতলা ভাড়া নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িটি এখন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সরব। এতে স্থানটি যেমন কাজে লাগছে, তেমনি আমি একটি ভালো জায়গা ভাড়া হিসেবে পেয়েছি।’ স্কুলের পার্টনার নইম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি বর্তমানে ভৈরবের বাইরে আছেন এবং পরদিন এসে কথা বলবেন।
এ বিষয়ে জিল্লুর রহমানের পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তাঁর দুই মেয়ে আছেন, তবে তাঁরা বর্তমানে কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শবনম শারমিন বলেন, ‘বিষয়টি এখন শুনলাম। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। কেউ লিখিতভাবে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top