ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে দিতে হবে। রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। ‘প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন এবং একটি বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে লক্ষ্যে’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, রাজশাহী জেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের প্রধান চাওয়া সংস্কার বিষয়ে কোন সুরাহা এখনো হয় নাই। সংস্কার নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও জুলাই সনদ যা জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ দলিল তা এখনো ঘোষণা করা হয় নাই। কবে নাগাদ তা করা হবে তাও অনিশ্চিত হয়ে আছে। জুলাইয়ের প্রধান দাবী স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধকল্পে পরীক্ষিত পদ্ধতি নিম্নকক্ষে পিআর নিয়েও কোন সিদ্ধান্ত হয় নাই; এমনকি এজেন্ডাও তোলা যায় নাই। সংস্কারকে এমন অসম্পন্ন ও অনিশ্চিত অবস্থায় রেখে সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে নির্বাচনকে মূখ্য করে অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেছে। দেশে যখন চারদিকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও খুনিদের মহড়া চলছে, ঠিক সেই সময় সেগুলো নিয়ন্ত্রণ না করে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান না করে নির্বাচনকে প্রধানকাজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে যা অত্যান্ত দুঃখজনক।
তিনি আরো বলেন, দেশের সকল মানুষের ভোটের মূল্যায়ন করতে, দেশকে ভোট নিয়ে অরাজকতা, হানাহানি, সন্ত্রাস থেকে মুক্ত করতে পিআর পদ্ধতির কোন বিকল্প নাই। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচারের প্রশ্নে পিআরই সর্বোত্তম পন্থা। তাই আমরা উভয় কক্ষেই পিআর চেয়েছি এবং সংসদের নিম্নকক্ষই যেহেতু জনপ্রতিনিধিত্ব, আইন প্রণয়ন ও জবাবদিহিতার প্রধান কেন্দ্র সেহেতু নিম্নকক্ষে পিআর বেশি জরুরী। নিম্নকক্ষে পিআর না হলে দেশে স্বৈরতন্ত্রের প্রলম্বিত অপচ্ছায়া থেকেই যাবে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার কারণে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও বুদ্ধিজীবীদের মতামতকে এতো নগ্ন ও বেপরোয়াভাবে উপেক্ষা করা প্রকারান্তরে জুলাইয়ের রক্তকে উপেক্ষা করা। আমরা এটা প্রত্যাশা করি নাই। আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করি। সর্বদা সম্ভাবনাকে স্বাগত জানাই, আলিঙ্গন করি। সেই কারণেই উচ্চকক্ষে পিআরের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আমরা ঐকমত্য কমিশনকে বলবো, নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির আলোচনা এজেন্ডায় আনুন। আলোচনা হোক। যদি আলোচনায় এই ব্যাপারে ঐকমত্যে না পৌছানোও যায় তাহলেও এর রেকর্ড থাকুক। ইতিহাস জানবে, কে বা কারা দেশের কল্যাণের পথে বাঁধা সৃষ্টি করেছে। কাদের কারণে স্বৈরতন্ত্রকে চিরস্থায়ী উৎখাত করা যায় নাই। আর ঐকমত্য কমিশন যদি এটাকে এজেন্ডাতেই না আনেন তাহলে এর দায়ভার আপনাদেরকেই বহন করতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ ইমতিয়াজ আলম বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এই দেশটা লুটপাট করেছে। তার মন্ত্রী, এমপি ও সাধারণ নেতা-কর্মীরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে বেগমপাড়া তৈরি করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ দেখেছি, জাতীয় পার্টি দেখেছি, বিএনপিকে দেখেছি কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে দেখিনি। তাই দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, ঘুষ, দুর্নীতি ও কালো টাকার নির্বাচন বন্ধ করতে হলে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। ৫ আগস্টের পর দেশব্যাপী যারা লুটপাট, চাঁদাবাজী ও দখলদারিত্ব কায়েম করেছে তাদের প্রত্যাখান করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) শেখ মুহাম্মাদ নুরুন নাবী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় তথ্য, গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক, মুহাম্মাদ ফয়জুল ইসলাম। আরো বক্তব্য রাখেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, রাজশাহী মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদ, সহ-সভাপতি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত রাজশাহী-২ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব ফয়সাল হোসেন (মনি), জেলা সহ-সভাপতি মুফতি ওমর ফারুক, সেক্রেটারী মুহাম্মাদ তারিফ উদ্দিনসহ জেলা, নগর ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।