বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখব। রোববার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের শাসন রাজনৈতিক অধিকার আমাদেরকে প্রষ্ঠিত করতে হবে। আর এটার মূল উপায় হলো, জনগণের ভোটের ব্যবস্থা করা। ভোট প্রদানের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে, কে দেশ পরিচারণা করবে, জনগণের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। আমরা দেখছি সরকার সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করা হয়েছে, রোজার আগের রমজানের আগে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে জনগণের অধিকারের পথম পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হবে।
বক্তব্যে বারবার নানা চ্যালেঞ্জের কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শুধু ভোট বা সরকার গঠন করলেই হবে না। আমার সামনে যারা আছেন, আপনাদের সাথে যখন কথা হয়, একটি কথা শুনতে পাই, আপানারা গ্রামে-পাড়ায় যান, জনগণের সাথে কথা বলেন, সাধারণ মানুষ জানতে চায়, দেশের ভবিষ্যৎ কি, বিএনপি কি করবে আগামীতে? এই যে জানতে চায়? কেন জানতে চাই? আপানাদের ধারণা আছে? এটার কারণ হলো জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে চায়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সমর্থন ধানের শীষ তথা বিএনপি পাবে। পাওয়ার পর আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। স্বৈরাচার দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, আইনশৃঙ্খলা সব ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। ভাল শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। শিক্ষার আলো পৌছে দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শেষ করে দিয়েছে। কিছু হলেই মানুষ পার্শ্ববর্তী একটি দেশে যায়। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। নিজেদের ডাক্তার নার্স গড়ে তুলতে হবে, হাসপাতাল এমন করতে হবে যেন মানুষ এদেশের হাসপাতালে চিকিৎসা পায়।
পানির নায্য হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির জন্য প্রয়োজনে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব, জাতিসংঘে যাব। পানির হিস্যা বের করে নিয়ে আসতে হবে। পানির ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। সামনে অনেক কাজ আছে, অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, এসব নিতে হবে। আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। মানুষ বিশ্বাস করে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব দেশকে গড়ে তোলা।
তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপানদের দিকে দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। এখন প্রথম কাজ হলো, আমাদেরকে সকল ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিল করতে পারবো না। জনগণের আস্থা বিশ্বাস আমাদের ওপর আছে। এটা ধরে রাখার দায়িত্ব জনগণের না, আমাদের দায়িত্ব। এ দেশকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখব, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।
নগরীর শাহ মখদুম ঈদগাহের কাছে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্বোধক ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, সাংগঠনটিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মিছিল করতে করতে সম্মেলনে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। স্লোগানে স্লোগানে তারা জড়ো হন সম্মেলনস্থলে। দুপুর গড়ানোর সাথে সাথে সম্মেলন স্থল কানায় কানায় পুর্ণ হয়ে যায়। সম্মেলনস্থলে জায়গা না পেয়ে অনেকে পদ্মা নদীর ধারসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাকে আহ্বায়ক ও মামুনুর রশিদ মামুনকে সদস্য সচিব করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আহ্বায়ক কমিটির পরিধি বাড়িয়ে ৬১ সদস্যের করা হয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।