সকল মেনু

জুলাই যোদ্ধা ও আহতদের বাদ দিয়েই জুলাই বর্ষপূর্তি করল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 

২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে বর্ষপূর্তি উদযাপনের অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে ।বিশেষ করে যারা আন্দোলনে আহত হয়েছেন তাদের ডাকা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে আয়োজন করা হয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি’ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শহীদ জবি শিক্ষার্থী  ইকরামুল হক সাজিদের মাতা মোছাঃ নাজমা খাতুন লিপি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারাই উপেক্ষিত। যারা আহত হয়েছেন বা সম্মুখ সারিতে ছিলেন তারা অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বাদ রাখা হয়েছে। আন্দোলনের প্রকৃত নেতৃত্ব ও ত্যাগের ইতিহাসকে উপেক্ষা করে এমন আয়োজন ‘লজ্জাজনক ও হতাশাজনক’ মনে করছেন অনেকে।
ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসিবের হাত ভেঙে যায় এ আন্দোলনে। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক পট পরিবর্তন হলেও বর্ষপূর্তি আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মতামত না নিয়ে, সংগঠকদের উপেক্ষা করে একতরফাভাবে অনুষ্ঠান করা ইতিহাস বিকৃতির শামিল। হাসিনার বন্দুকের সামনে জীবন বাজি রেখে যে যোদ্ধারা আজকের প্রশাসনকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই যোদ্ধাদের উপেক্ষা করে কোনো আয়োজনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
 জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিশোদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন আজ যেসব শিক্ষক “জুলাইয়ের চেতনা” ধারণ করে সামনে আছেন, তারা হয়তো নিজেরা জানেন—হাসিনা যদি ক্ষমতায় থেকে যেতেন, তাহলে তারাই রূপ বদলে আবার স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়াতেন। কিন্তু আমাদের জীবন? তা নিশ্চিহ্ন করে দিতো সেই স্বৈরাচারী রাষ্ট্রযন্ত্র।এই আত্মবিস্মৃত প্রশাসনের প্রতি ধিক!
 বাংলাদেশ গণ তান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সদস্য সচিব শাহীন মিয়া বলেন আজকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে আয়োজন করেছে সেটা পজিটিভ হিসেবেই দেখি তবে জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে যারা বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তাদেরকে নিয়ে প্রোগ্রাম সাজিয়েছে যেটা দুঃখজনক। এবং প্রশাসনের এই গাফিলতি প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা অবমাননার শামিল।
বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘এটা হচ্ছে যে প্রশাসন একটা দুর্বলতা। ওনাদেরকে স্বীকার করতে হবে এবং এটার দায়ভার নিতে হবে। তারা কেন এই কাজ করল? নাকি এটাতে তাদের অন্য কোন স্বার্থ জড়িত?  শুধু রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোই নয়, যারা সাধারণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ছিলো তাদেরকেও জানানো হয়নি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জবি শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘এই প্রোগ্রামের বিষয়ে আমাদের কিছুই অবহিত করা হয়নি। আমি মনি করি, জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের জানানো উচিত ছিল।’
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিনের কাছে  এ ব্যাপারে মন্তব্য চাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
সার্বিক বিষয় সম্পর্কে  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা একটি কমিটি গঠন করেছিলাম। যারা  সবকিছু যাচাই-বাছাই করেছে। সবার অবদানকে মূল্যায়ন করে সম্মান জানানো হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমাদের সবার উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  আমরা মনে করি, এ নিয়ে অতিরিক্ত কথা বলা এখন যুক্তিযুক্ত নয়। বাস্তবতা হলো, একটি কমিটি ছিল, যারা বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top