জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং আবাসন খাতে সম্পূরক বৃত্তি প্রদানের দাবিতে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত বুধবার (৩১ জুলাই) তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জকসু নির্বাচন এবং সম্পূরক বৃত্তি বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে দুই দিনের আল্টিমেটাম দেন। আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়ায় তারা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
জবি শাখার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, ‘আমরা দুই দিনের সময়সীমা দিয়েছিলাম, কিন্তু প্রশাসন কর্ণপাত করেনি। তারা হয়তো ভাবছে আমরা হাল ছেড়ে দেবো, কিন্তু তারা জানে না- আমরা এই দাবি আদায়ে যে কোনো কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।’
ইসলামী ছাত্রশিবির জবি শাখার অর্থ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জকসু নিয়ে প্রশাসনের দীর্ঘ দিনের তালবাহানা চলছেই। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হলেও জবিতে কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা চাই এই সপ্তাহের মধ্যেই জকসুর নীতিমালা সিন্ডিকেটে পাশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হোক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পূরক বৃত্তি প্রদানের সময়সীমা নির্ধারণ করা হোক।’
জবি শাখার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান রাব্বি বলেন, ‘গত বছর জুলাইয়ের পর থেকেই জবির শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন। কিন্তু একবছরেও নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের স্পষ্ট কথা- সেপ্টেম্বারের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে। লং মার্চ টু যমুনার মূল দাবি ছিল আবাসন ভাতা বা সম্পূরক বৃত্তি, যা জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখনও রোডম্যাপ প্রকাশ হয়নি।’
জবি শাখার বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘সম্পূরক বৃত্তি ও জকসু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রহসন আর সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীরা জানতে চায় -বৃত্তি কবে থেকে দেওয়া হবে। ৭ আগস্টের মধ্যে নীতিমালা সিন্ডিকেটে অনুমোদন দিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।’
জবি শাখার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘প্রশাসনের নীরবতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে- আসলে বৃত্তি বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই জকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ জরুরি, যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।