নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন দয়ারামপুর সাবস্টেশন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দয়ারামপুর, আব্দুলপুর, ওয়ালিয়া, লালপুর, সালামপুর ও দিলালপুর সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত কোনো সময়সূচি ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন।
আব্দুলপুর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, “দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। চলমান শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষা ও নিয়মিত প্রস্তুতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কৃষকেরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সেচ কার্যক্রমে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর লালপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম জানান, লালপুর উপজেলা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১০ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৭ মেগাওয়াট বা ৪০ শতাংশ ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
দয়ারামপুর সাবস্টেশনের এজিএম মনিরুল ইসলাম বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার মতো নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন এলাকাতেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি।”
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে অবকাঠামোতেও। আব্দুলপুর জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে স্টেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন চত্বর অন্ধকারে ডুবে থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। দীর্ঘ সময় এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বিষয়টি এখন শুধু গ্রাহক ভোগান্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি জননিরাপত্তা ও সরকারি সেবার মানের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাঁরা দয়ারামপুর সাবস্টেশনের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি, দায়িত্বরতদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, অনতিবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়বে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।