নাটোরের লালপুর-ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের ঠাকুর মোড় থেকে আরামবাড়িয়া ব্রিজ পর্যন্ত অংশটি বর্তমানে এক ভয়াবহ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই কয়েক কিলোমিটার রাস্তায় প্রতিনিয়ত ঝরছে তাজা প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অসংখ্য মানুষ। সম্প্রতি একের পর এক প্রাণহানি এই জনপদকে শোকাতুর করে তুলেছে। যখন একটি সড়কের পরিচয় হয় ‘মৃত্যুর মিছিল’ দিয়ে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা আমাদের বিচলিত করে।
এই সড়কটি কেবল স্থানীয়দের জন্য নয়, বরং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। বাঘা উপজেলা থেকে ঢাকাগামী বড় পরিবহনগুলো নিয়মিত এই পথেই যাতায়াত করে।
এছাড়া খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পৌঁছানোর জন্য এই রোডটিকেই প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করে। অথচ এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে কোনো ডিভাইডার নেই, নেই পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্ন। ফলে দ্রুতগতির বাসের সাথে ছোট যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ এখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সড়কের এই অব্যবস্থাপনা শুধু জীবন কেড়ে নিচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। দুর্ঘটনায় উপার্জনক্ষম সদস্য হারানো পরিবারগুলো স্থায়ীভাবে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী অবহেলা আর ডিভাইডার নির্মাণের গণদাবি ফাইলবন্দি হয়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জননিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়ে এই উদাসীনতা অপরাধের শামিল।
নব্বইয়ের দশকে লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছিলেন জননেতা মরহুম ফজলুর রহমান পটল। তার সময়কালে এই জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি যে দূরদর্শী ভূমিকা রেখেছিলেন, তা আজও মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। আজ তার সুযোগ্য কন্যা ফারজানা শারমিন পুতুলের ওপর মানুষের সেই একই প্রত্যাশা কাজ করছে। লালপুর-বাগাতিপাড়ার জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার বাবার সেই উন্নয়নের উত্তরাধিকার রক্ষা করা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আমরা আশা করি, বাবার মতোই জনগণের দুঃখ-দুর্দশা অনুভব করে তিনি দ্রুত এই মহাসড়কে ডিভাইডার নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন। এটি কেবল একটি নির্মাণকাজ নয়, বরং শত শত মানুষের জীবন বাঁচানোর এক জরুরি পদক্ষেপ। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর প্রতি লালপুরবাসীর জোরালো দাবি—অবিলম্বে ঠাকুর মোড় থেকে আরামবাড়িয়া পর্যন্ত ডিভাইডার নির্মাণের ব্যবস্থা করুন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনপদকে মরণফাঁদ থেকে মুক্তি দেয়া সম্ভব।
লেখক: সাংবাদিক
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।