হৃদয়ের নির্বাসন
— ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক জহির
নিভে গেছে ভেতরের প্রদীপ—
আলো ছিল, আজ শুধু ধোঁয়া;
সিজদায় নত হয় দেহ,
কিন্তু কাঁপে না অন্তর—
শুকনো মাটির মতো
কঠিন হয়ে আছে হৃদয়।
কোথায় সেই নরমতা—
যেখানে তোমার নাম এলেই
চোখ ভিজে উঠত নীরব বৃষ্টিতে?
আজ শব্দ আছে, সুর নেই—
জিকির আছে, জ্বালা নেই।
চোখ দু’টি—
কত দৃশ্য দেখে, কত রঙে ভাসে,
তবু তোমার ভয়ে
এক ফোঁটা অশ্রুও ঝরে না!
এ কি পাথরের চেয়েও কঠিন কোনো নীরবতা?
নাকি আত্মা ক্লান্ত হয়ে
চোখকে দিয়েছে নির্বাসন?
হায় দুনিয়া—
তোমার স্বপ্ন কত দীর্ঘ!
আমি প্রাসাদ গড়ি কল্পনায়,
কিন্তু ভুলে যাই কবরের দৈর্ঘ্য।
হিসাব রাখি বছর, মাস, পরিকল্পনার—
কিন্তু রাখি না
শেষ নিঃশ্বাসের অনিশ্চয়তা।
আমার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে চলে—
একটা পেলে আরেকটা চাই,
আরেকটা পেলে আরও দূরের স্বপ্ন।
এ যেন মরীচিকার পেছনে দৌড়—
পানি নেই, তৃষ্ণা শুধু বাড়ে।
লোভ—
নিঃশব্দ আগুন,
বাইরে যার শিখা নেই,
ভেতরে শুধু ছাইয়ের স্তূপ।
আমি নিজেই বন্দী
নিজেরই অদৃশ্য শিকলে।
আজ আমি—
নিজেকে বড় দেখাতে
কত মুখোশ পরি নীরবে!
কণ্ঠে বিনয় রাখি,
অন্তরে লুকাই অহংকারের ঝড়।
আমি গুনি শুধু তাদের—
যাদের হাতে দুনিয়ার আলো,
যাদের নাম শুনে নত হয় সভা;
আর যে নিরব মানুষটি
অদৃশ্য থেকে যায়—
তার দোয়াকে করি অবহেলা।
আমি ভাবি—
ইজ্জত শুধু আমার,
সম্মান শুধু আমার নামের পাশে!
অন্যরা যেন ছায়া—
তাদের নেই কোনো ওজন, কোনো পরিচয়।
হে আমার অন্তর—
এই অহংকারই কি তোমার অন্ধকার নয়?
এই ভ্রান্ত বড়ত্বই কি
তোমার পতনের শুরু নয়?
যাকে আমি তুচ্ছ করি,
তারই দোয়া হয়তো
আমার আকাশ খুলে দিতে পারে।
তবুও—
এই অন্ধকারের ভেতরেও
একটি দরজা খোলা থাকে—
ফিরে আসার।
যদি একবার
হৃদয় ভেঙে পড়ে তাঁর সামনে,
যদি একফোঁটা অশ্রু
সত্য হয়ে ঝরে—
তবে পাথরও গলে যাবে,
শুষ্কতাও হবে নদী।
হে অন্তর—
তুমি কি শুনছো সেই আহ্বান?
নিঃশব্দে ডাকছে তোমাকে—
ফিরে যাও,
যেখানে নরমতায় জন্ম নেয় নম্রতা,
যেখানে অশ্রু ইবাদত,
যেখানে দুনিয়া ক্ষণিক—
আর রব হয়ে ওঠেন অনন্ত।
ফিরে যাও—
নির্বাসন থেকে নিকটতায়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।