লাল-সবুজ: ঈমানের অঙ্গীকার
— ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক জহির
লাল—
এ কেবল রক্ত নয়,
এ ইতিহাসের জ্বলন্ত সাক্ষ্য;
যেখানে প্রতিটি ফোঁটা উচ্চারণ করে—
“মানুষ দাস হয়ে বাঁচার জন্য জন্মায় না।”
সবুজ—
এ শুধু ভূমির রঙ নয়,
এ পুনর্জন্মের অনন্ত ঘোষণা;
ধ্বংসস্তূপ ভেদ করে উঠে আসা জীবনের
অদম্য, অবিনাশী স্বাক্ষর।
২৬ মার্চ—মহান স্বাধীনতা দিবস,
লাখো শহীদের রক্তে রাঙানো এই দিনে—
আমরা স্মরণ করি
জাতির সেইসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের,
যাদের আত্মদানে জেগে উঠেছিল এক ভূখণ্ড,
একটি স্বাধীন দেশ,
একটি লাল-সবুজের পতাকা।
১৯৭১ সালের সেই প্রভাতে—
শুরু হয়েছিল মুক্তির সংগ্রাম,
রক্তে লেখা হয়েছিল
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস।
এই পতাকা—
কোনো কাপড় নয়, কোনো নিছক প্রতীক নয়,
এ এক ঈমানের অঙ্গীকার—
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করার,
সত্যের পক্ষে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকার।
লাখো প্রাণ—
নামহীন, অজানা, অথচ অমর;
তাদের রক্তে লেখা—
স্বাধীনতা কোনো দান নয়,
এ ছিনিয়ে নিতে হয়,
আর রক্ষা করতে হয় ঈমানের শক্তি দিয়ে।
স্বাধীনতা—
রবের দেওয়া এক পবিত্র নিয়ামত,
যার পাহারায় শৈথিল্য চলে না;
যার মর্যাদা রক্ষা করা
ঈমানেরই আরেক নাম।
যদি কখনো ভয় আসে—
স্মরণ করো সেইসব বীরদের,
যারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে
জীবনকে দিয়েছে মুক্তির সংজ্ঞা।
তারা আজ দৃশ্যমান নয়—
তবু তাদের রক্ত প্রবাহিত
প্রতিটি লাল-সবুজের স্পন্দনে;
তাদের নীরবতা আজও গর্জে ওঠে—
“বাংলাদেশ মানে মাথা নত নয়!”
তাই এসো—
আবার শপথ নিই,
এই পতাকা কখনো মলিন হতে দেবো না;
প্রয়োজনে জীবন দেবো,
তবু মর্যাদা বিকাবো না কোনোদিন।
লাল-সবুজ উড়ুক—
শুধু আকাশে নয়,
আমাদের বিশ্বাসে,
আমাদের রক্তে,
আমাদের শেষ নিঃশ্বাসে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।