মাটির সন্তান, আলোর যাত্রী
— ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক জহির
মাটি—
নিঃশব্দ প্রজ্ঞার প্রাচীন কিতাব,
তার অন্ধকারে লুকানো
প্রথম শ্বাস, প্রথম কান্না, প্রথম দীপ।
তুমি মাটি থেকে উদ্ভূত,
কিন্তু মাটি নও তুমি;
ভেতরে জ্বলছে আসমানের আগুন,
রুহের নীল অমর দীপ।
একদিন—
মাটি টেনে নেবে তোমায় নীরবে,
রাজা, ফকির, জ্ঞানী, অজ্ঞ—
সবই ধূলির সমান।
তারপর—
শিঙ্গার ধ্বনি কেটে যাবে নীরবতা,
সময়ের কবর ভেঙে মানুষ জাগবে,
ভয়ার্ত, তবু আকাঙ্ক্ষায় দীপ্ত,
প্রতিপালকের দিকে ছুটে চলবে।
তখন—
নামবে বিচার, নীরব ও নির্দয়;
আমলই হবে ভাষা, সত্যই হবে মাপকাঠি—
কারো গন্তব্য জান্নাতের আলো,
কারো পতন জাহান্নামের অন্ধকার।
এই জীবন—
এক ক্ষণিক মরীচিকা,
খেলাধুলার ভাঙা মঞ্চ;
ছায়া সত্য ভেবে মানুষ হারায়
নিজের ঠিকানা।
মোহে সাজানো এ দুনিয়া—
নারী, সন্তান, স্বর্ণের ঝলক,
অশ্ব, সম্পদ, ক্ষেতের সবুজ প্রলোভন—
চোখ ধাঁধানো ক্ষণিক অলংকার;
কিন্তু এর ওপারে আছে
চিরন্তন প্রতিদানের আহ্বান।
কিন্তু আখেরাত—
চূড়ান্ত জাগরণ,
যেখানে অশ্রু পায় ভাষা,
নিঃশ্বাস পায় বিচার।
তাই ফিরে চলো—
অহংকার ভেঙে,
নম্রতার মাটিতে নত হয়ে;
তুমি মাটির সন্তান—
কিন্তু নিয়তি ধূলি নয়,
তোমার শেষ ঠিকানা
আলোর অনন্তে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।