সকল মেনু

রাকসু জিএসকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন শিক্ষক নেতারা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ঐদ্ধতপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতারা। গতকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। এ সময় আম্মারকে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানানো হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ৯ নভেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কক্ষে তিনি বাইরের কিছু অতিথির সাথে আলাপকালে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক আম্মার রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি তাকে ১০মিনিট পর প্রবেশ করতে বলেন। সে সময় ফিশারিজ অনুষদের অধিকর্তা প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান রেজিস্ট্রারের সাক্ষাৎ লাভের জন্য অপেক্ষমান ছিলেন। তিনিও তাকে ভেতরে গেস্ট আছে বলে অপেক্ষা করতে বলেন। সে নির্বাচিত জিএস, তাই তার যে কোনো সময় প্রবেশাধিকার আছে বলে দাবি করে। আম্মার রেজিস্ট্রার ও ডীনের অনুরোধ উপেক্ষা করে রেজিস্ট্রারের কক্ষে জোরপূর্বক কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ ঢুকে পড়ে এবং কোনো একটি ফাইলের ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করে উচ্চবাচ্য শুরু করে ও অফিসের পরিবেশ বিঘ্নিত করে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ করে সালাহউদ্দিন আম্মারকে বলতে শোনা যায়, অফিস কক্ষে মহানগর বিএনপির প্রোগ্রাম চলছে। অথচ প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে সেখানে দেখা যায়নি। সেখানে রাজশাহী এনসিপি নেতাদের সাথে রেজিস্ট্রার মহোদয়ের মতবিনিময় সভা চলছিল, যা ফুটেজে এনসিপি নেতাদের উপস্থিতির মাধ্যমে প্রমাণিত। এ যেন বিএনপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কোনোকিছু প্রচার করে রাতারাতি মহানয়ক বনে যাওয়ার প্রচেষ্টার পুরনো নাটক।’
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সে নির্বাচিত জিএস হলেও প্রশাসনিক কাজে খবরদারী করা তার এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ। নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে বিভিন্নভাবে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ ও শিক্ষক লাঞ্ছনাসহ নানাবিধ কাজে সংশ্লিষ্ট থাকা সত্বেও অজ্ঞাত কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিষয়ে নীরব থেকেছে এবং সে আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। যার ফলে তার দুঃসাহস ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার এহেন কার্যকলাপে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং বিএনপিকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তার এ ঘৃণিত কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত ও কলুষিত হচ্ছে। তাই তার অতীত ঘটনাবলীর তদন্ত রিপোর্ট অনতিবিলম্বে প্রকাশ করে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  জিয়া পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদের অফিসে গত ৯ নভেম্বর রাকসুর নির্বাচিত জিএস সালাউদ্দিন আম্মার কর্তৃক সংঘটিত ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জিয়া পরিষদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ করে সালাউদ্দিন আম্মারকে বারবার বলতে শোনা যায়- অফিস কক্ষে মহানগর বিএনপির প্রোগ্রাম চলছে। সেখানে রাজশাহীর এনসিপি নেতাদের সাথে রেজিস্ট্রার মহোদয়ের মতবিনিময় সভা চলছিল। যা উক্ত ফুটেজে এনসিপি নেতাদের উপস্থিতির মাধ্যমে প্রমাণিত। এ যেন বিএনপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক কোনোকিছু প্রচার করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা মাত্র।’
বিবৃতিতে জিয়া পরিষদের নেতারা আরও বলেন, ‘সম্মানিত রেজিস্ট্রার মহোদয় ও বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করায় জিয়া পরিষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।  জিয়া পরিষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ অবস্থা নস্যাৎ করতে একটি কুচক্রি মহল সালাউদ্দিন আম্মারকে দিয়ে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ অবস্থাকে নষ্ট এবং বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার না করার জন্য সালাউদ্দিন আম্মারকে পেশাদার ও দায়িত্বশীল আচরণের আহবান জানাচ্ছে।’
ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top