জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে ভর্তি জালিয়াতির চেষ্টা করায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ধরা পড়া এ ঘটনা বড় একটি সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়ার মৌখিক যাচাই-বাছাইয়ের সময় সন্দেহজনক আচরণ ও অসঙ্গতির কারণে একাধিক শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করা হয়। ত্রিশালের নামাপাড়ার এক ভর্তিচ্ছুর, (ওবায়েদ হাসান আফিফ) স্বাক্ষর ও প্রবেশপত্রের সঙ্গে চেহারার অমিল, এবং সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়া পরীক্ষকদের সন্দেহে ফেলে। পরে অভিভাবকের পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে আসে আরও অসঙ্গতি। শিক্ষার্থীটির সঙ্গে আসা পনির উদ্দিন খান পাভেলের কথাবার্তা ও ভঙ্গি শিক্ষকদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত করে। পাভেল একবার নিজেকে জগণ্ণাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরেকবার আনন্দমোহন কলেজের শিক্ষার্থী নামে পরিচয় দেয়।
শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে চেক করে দেখা যায়, পাভেলের সঙ্গে ভর্তি সংক্রান্ত টাকার লেনদেন ও স্বাক্ষর অনুশীলন নিয়ে কথোপকথন হয়েছে। পাভেলের আইফোনে পাওয়া যায় পিএসসি, ডাক্তার (বিসিএস), বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা ও গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার এডমিট কার্ডসহ বহু প্রার্থীর ছবি। তবে এসময় একটি কল আসার পর ফোনটি লক হয়ে যায়, যা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও খোলা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফোনটি পুলিশের সহায়তায় বিশেষজ্ঞ দিয়ে খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, ফোনটি আনলক করতে পারলে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও উঠে আসতে পারে।
তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, আটককৃতদের একজন,সালমান ফারদিন সাজিদ সিয়াম বর্তমান আইন ও বিচার বিভাগে ২০২৩-২০২৪ সেশনের শিক্ষার্থী, যিনি এ বছর অন্য এক পরীক্ষার্থীর হয়ে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রক্সি পরীক্ষা দিয়েছেন। ওই পরীক্ষার্থী গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকরা এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রমাণ সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার ফলে পুরো ঘটনাটি উদ্ঘাটন সম্ভব হয়। পরে প্রশাসন আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করে এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্ত শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সিন্ডিকেট দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করছে। মামলার এজাহারে যেন ঘটনাটি বিকৃত না হয় এবং সত্য তথ্যই উঠে আসে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।