ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে কলেজে যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হোন মারুফা আক্তার (২২)। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। এমনকি আত্মীয়স্বজনদের বাসায় খোঁজ মেলেনি তার। এ ঘটনায় চরম উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজন। নিখোঁজের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও তার কোনো সন্ধান না মেলায় মারুফা আক্তারের স্বামী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের নোনামাটিয়াল গ্রামে। নিখোঁজ মারুফা আক্তার ওই গ্রামের এনামুল হক সুমনের স্ত্রী।
মারুফা আক্তারের স্বামী এনামুল হক সুমন জানান, গত ১৬ জুন দুপুর ১২টার দিকে তার স্ত্রী মারুফা আক্তার কলেজে গিয়ে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার প্রবেশপত্র নেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হোন। এরপর আর ফিরে আসেননি। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন ১৭ জুন দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
এনামুল হক সুমন অভিযোগ করেন, থানায় জিডি করলেও পুলিশ এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ভিকটিমকে উদ্ধারে কোনো সহায়তা করেননি। পুলিশের এমন বৈরী আচরণে আমরা হতাশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমি থানায় জিডি করেছি, কিন্তু পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আমার স্ত্রী বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও জানি না। নাম-পরিচয় গোপন করে আমাকে জনৈক এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে জানান, চা-মিষ্টি খাওয়া বাবদ ৫/১০ হাজার টাকা পুলিশকে দেয়া হলে আমার স্ত্রীকে পুলিশ খুঁজে বের করবে।
নিখোঁজ গৃহবধূর পিতা মামুনুর রশীদ বলেন, জয়নগর ইউনিয়ন বিট পুলিশের ইনচার্জ এসআই রেজাউল করিম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন না। তাই আমার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিনা। তিনি সহযোগিতা করলে এতোদিনে আমার মেয়েকে খুঁজে পেতাম।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, “প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি, মেয়েটি একজন ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। তবে পরিবার থেকে যেহেতু অভিযোগ এসেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে, তাই তাকে খুঁজে বের করে ফেরানোর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।