সকল মেনু

সুনামগঞ্জে পণতীর্থ বারুণী স্নান এলাকা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

প্রায় সাড়ে ৭ শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় মহোৎসব পণতীর্থ গঙ্গাস্নান আগামী (২৬ মার্চ) বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকালে সমাপ্ত হবে।
জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৭ শত বছর ধরে প্রাচীন লাউর রাজ্য হাবেলির পুরোহিত শ্রী শ্রী অদ্বৈত্য আখরাবাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রাজারগাঁও নবগ্রাম সংলগ্ন ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সীমান্ত নদী যাদুকাটায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পণতীর্থ গঙ্গাস্নান ও বারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
এ উৎসবকে ঘিরে দেশ/বিদেশের কয়েকলাখ সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতার সমাগম ঘটে তাহিরপুর উপজেলায়। স্নানযাত্রাকে ঘিরে নদী তীরের বালুচরে তিনদিন ব্যাপী বারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এই স্নানযাত্রা ও বারুণী মেলাকে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে প্রতি বছরই সুনামগঞ্জ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অপরদিকে একই সময়ে একই উপজেলার সীমান্ত এলাকা লাউরেরগড় সাহিদাবাদ এলাকায় হযরত শাহ্ জালাল (রহ.) এর সফরসঙ্গী ৩ শত ৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী জিন্দাপীর খ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহ্ আরেফিন (রহ.) এর আস্তানায় তিনদিন ব্যাপী বার্ষিক ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয় আসছে প্রাচীন কাল থেকেই। কিন্তু এ বছর ওরসের নির্ধারিত দিনপঞ্জিকা পবিত্র মাহে রমজান ও শবে কদরের রাত্রি হওয়ায়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং ওরস উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়ে এ বছর, ওরস ও তিনদিন ব্যাপী মেলার সকল কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে আজ সোমবার (২৪ মার্চ) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্নানযাত্রার যাদুকাটা নদী, নদী তীরে বারুণী মেলা এবং অদ্বৈত্য আখরাবাড়ি রাজারগাঁও নবগ্রাম তিনটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার উৎসব এলাকার তিন স্থানের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সেখানে আগত পুণ্যার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. জাকির হোসাইন, তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ উৎসব উদযাপন কমিটির নেতৃবৃদ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ জানিয়েছেন, আগামী ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত যাদুকাটা নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা এবং বারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশ/বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পুণ্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছ।
ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top