জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাগরকে মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী জবি শিক্ষার্থী সাগরের দাবি, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আওয়ামী লীগ সভাপতির নেতৃত্বে তার বাবা, একজন সাবেক আর্মি অফিসার, নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আপস না করায় প্রতিশোধ হিসেবে সাগরকে একটি পূর্বের মামলায় আসামি করা হয়।
এরপর ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাগরের গ্রামের পাশের গ্রামে এক কিশোর পানিতে ডুবে মারা যায়। প্রাথমিক তদন্তে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় পুলিশ এটিকে অপমৃত্যু হিসেবে রিপোর্ট করে। কিন্তু পরে মামলাটি পুনরায় খোলা হলে, সাগরের নাম ছয় নম্বর আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়।
সাগর জানান, তিনি ২০১৩ সালের পর থেকে এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকেননি। টাঙ্গাইলে কলেজ জীবন শেষে ২০১৬ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পুরান ঢাকায় বসবাস করছেন। ফলে মামলায় তার জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।
মামলাটি প্রথমে খারিজ হলেও পরবর্তীতে আপিলের মাধ্যমে পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের সময় সিআইডি সাগরকে আশ্বস্ত করলেও, শেষ পর্যন্ত চার্জশিটে তার নাম যুক্ত করা হয়। সাগরের অভিযোগ, সিআইডির নিরপেক্ষতার অভাব এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রভাবের কারণেই তিনি এই মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন।
সাগরের সামনে বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষা রয়েছে। এই মামলা তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাগর নিজে এই মামলা থেকে অব্যাহতি এবং তার বাবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।