জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ (২ মে) অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ‘বি’ (মানবিক) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। পরিক্ষায় নাজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নিয়েছে ৫৪৯৬ জন শিক্ষার্থী। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এই পরীক্ষা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয় এই গুরুত্বপূর্ণ ভর্তিযুদ্ধে।
পরীক্ষার সময়টা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, অভিভাবকদের জন্যও ছিল এক উৎকণ্ঠার প্রহর। প্রিয় সন্তানকে পরীক্ষার হলে পাঠিয়ে গাছতলা, ক্যাম্পাসের ফটক, বিশ্রামাগার কিংবা ছায়াঘেরা বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করেছেন তারা। এই এক ঘণ্টা যেন ছিল বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, নজরুল ভাস্কর , ক্যাফেটেরিয়া, ও প্রশাসনিক ভবনের আশেপাশে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই ছিলেন দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আগত—কেউ এসেছেন ঢাকা থেকে, কেউ নেত্রকোনা থেকে। ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা চলাকালীন তারা গল্প করেছেন, পত্রিকা পড়েছেন, আবার কেউ কেউ নীরবে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনায় মগ্ন থেকেছেন।
নেত্রকোনা থেকে আসা এক অভিভাবক বলেন, “ছেলেটার জন্য অনেক স্বপ্ন। এই ভর্তি পরীক্ষাটাই ওর ভবিষ্যতের পথ খুলে দিতে পারে। সারা বছর পরিশ্রম করেছে, আজ শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, যেন ভালো পরীক্ষা হয়।”
আরেক অভিভাবক, যিনি কিশোরগঞ্জ থেকে এসেছেন, বলেন, “এই এক ঘণ্টার অপেক্ষা কেমন জানি একটা যুদ্ধের মতো। গরম লাগছে, ক্লান্ত লাগছে, কিন্তু সন্তানের স্বপ্নের কথা ভাবলে সব ভুলে যাই।”
পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, সন্তানের মুখ দেখে অভিভাবকের চোখে-মুখে একরাশ প্রশান্তি। কেউ আনন্দে, কেউ আশঙ্কায় ছুটে যাচ্ছেন প্রশ্নপত্র দেখে বোঝার চেষ্টা করতে—সব ঠিকঠাক হয়েছে তো?
এই অপেক্ষা যেন শুধু সময় নয়—একটি জীবনের, একটি স্বপ্নের ও একটি ভবিষ্যতের প্রতীক।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।