সকল মেনু

সুঁই মাদকসেবীদের প্রাপ্য সেবা না দিয়ে কাগজে-কলমে কার্যক্রম

খুলনার সুন্দরবন কলেজের শিক্ষার্থী সুমন। রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। মাদক সেবনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ (ম্যাব) নামে একটি এনজিও’র নথিতে তিনি ‘সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী’।
একই অবস্থা খুলনার আরেক বাসিন্দা হাফিজের। দেড় বছর আগে তাঁর ‘হাফিজ এন্টারপ্রাইজ’ নামের গ্যারেজটি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনিও মাদক গ্রহণ করেন না। অথচ সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে হতভম্ব তারা।
শুধু সুমন বা হাফিজ নন, খুলনা বিভাগের ৫ জেলায় সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের জন্য পরিচালিত জিসি-৭ এইচআইভি প্রতিরোধ প্রকল্পের উপকারভোগীর তালিকা নিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ খুলনা বিভাগের খুলনা, সাতক্ষীরা, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলায় এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রকৃত উপকারভোগী না থাকায় প্রকল্পের নথিতে কাল্পনিক ও ভুয়া নাম এবং মাদক গ্রহণের অস্তিত্বহীন স্পট দেখিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় কেনা নিডল, সিরিঞ্জ, কনডমসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসামগ্রী উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া কিংবা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রকৃত জনগোষ্ঠী তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্য সামগ্রী ও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্পের নথিতে পাঁচ জেলায় দুই হাজারের বেশি সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীকে উপকারভোগী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাঁদের নিয়মিত নিডল, সিরিঞ্জ ও কনডম সরবরাহ, এইচআইভি, সিফিলিস ও হেপাটাইটিস-সি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানোর কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে গিয়ে প্রকল্পের নথিতে দেখানো উপকারভোগী ও মাদক গ্রহণের স্পটের অনেকগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা শহরে সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের ৩০টি স্পটে ৯শর বেশি মাদকসেবি দেখানো হয়েছে। তবে এসব স্পটের মধ্যে তুতপাড়া, দারগাপাড়া, শান্তিনগর, গল্লামারী ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ অর্ধেকের বেশি স্পট বাস্তবে সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের স্থান নয়, এবং প্রকৃত সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা দুইশর কম।
এছাড়া সাতক্ষীরায় প্রকল্পের নথিতে ৪৬২ জন সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী দেখানো হয়েছে। তাঁদের জন্য শহরে ১৫টি মাদক গ্রহণের স্পটও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মিলবাজার, কাঠিয়াবাজার, সুলতানপুর ও সঙ্গীতা মোড়সহ অর্ধেকের বেশি স্পটেও মাদকসেবি নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. বুলু শেখ বলেন, সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক সেবন করে এমন মাদকসেবী সাতক্ষীরায় খুবই রেয়ার। দেখা যায় না বললেই চলে।
সাতক্ষীরা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আলমগীর হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রজেক্টের স্বার্থে তালিকায় কিছুটা উনিশ-বিশ করতে হয়। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। অফিসে আসেন, কথা বলব।
এদিকে, তালিকায় নাম থাকা সুমন ও হাফিজ জানান, তারা কখনো মাদক সেবন করেন নি, তাহলে সিরিঞ্জ নিডিল দিয়ে কি করবো? এবং তাদের কখনো এইচআইভি পরিক্ষাও করা হয় নি। যারা এমন অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের শাস্তিও দাবি করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্ত আকাশ বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘তালিকা সরকারি ভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তবে তালিকা শতভাগ সঠিক, আমি এই কথা বলব না। কিছুটা গ্যাপ থাকতে পারে। আপনাদের কাছে স্পেসিফিক তথ্য থাকলে আমাদের দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top