সকল মেনু

নাটোরের গুরদাসপুরে ৫৬ প্রহর ব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় রাধাগোবিন্দ ঠাকুর মন্দিরে বিশ্বজননীর সকল জীবের মঙ্গল কামনায় সনাতন ধর্মালম্বীদের ৫৬ প্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ এবং রাধাকৃষ্ণের অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্বজননীর সকল জীবের শান্তি,ও কল্যাণ কামনায় ৫৬ পহর ব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানে চাঁচকৈড়ের স্বাগতিক দলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ছয়টি দল পরিবেশনায় অংশ নেন এবং রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাব আধারিত বাংলার এক ঐতিহ্যবাহী ব্যতিক্রমী ভক্তিসঙ্গীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিনটি দল অংশ নেন।

গত বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ নাটোরের গুরদাসপুর উপজেলার পৌর শহরের চাঁচকৈড় ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ঠাকুর মন্দিরে ১০৩ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে ৫৬ প্রহর ব্যাপী মহানাম যজ্ঞ ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন শুরু হয়।
গীতা পাঠ করেন শ্রী মনোরঞ্জন কুন্ডু ও শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ বর্মন।
গত ৩১ জুলাই শুক্রবার গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা ও ভক্তিমূলক গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
গত শনিবার (১ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান এবং ৭ আগস্ট শুক্রবার থেকে লীলা কীর্তন শুরু হয়।

আজ শনিবার ( ৮ আগস্ট ২০২৬) কুঞ্জভঙ্গ, দধিমঙ্গল ও মহোন্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান এবং লীলা কীর্তনের সমাপ্তি ঘটে।

নাম সুধা পরিবেশনায় ছিলেন বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ কীর্তনীয়া দল সমূহ খুলনার প্রভু নিতাই সম্প্রদায়, ভোলা জেলার বিনোদবিহারী সম্প্রদায়, নোয়াখালীর মীরার প্রভুজী সম্প্রদায়, চট্টগ্রামের গোঠের রাখাল সম্প্রদায়, খুলনার জগতবন্ধু সম্প্রদায় ও খুলনার সুরবাণী সম্প্রদায়।
লীলা কীর্তন পরিবেশনায় ছিলেন সাতক্ষীরার হরিদাস মহন্ত , নীলফামারীর মাধবী কৃষ্ণা দাসী, মানিকগঞ্জের, দীপঙ্কর ভোজ ।
অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশী লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটে । সাত দিনব্যাপী ভক্তবৃন্দের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আসা ভক্তরা জানান,, বহু বছর ধরে আমাদের এলাকায় এই অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। জগতের সকল জীবের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায় আমরা এখানে সমবেত হই। আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত সকল ধর্মের মানুষের আগমনে এ অনুষ্ঠানটি এখন সার্বজনীন রূপ নিয়েছে।

মন্দিরের সভাপতি শ্রী প্রশান্ত কুমার মানিক জানান, গ্রামবাসীর সম্মিলিত অর্থায়নে জগতের মঙ্গলকামনার্থে প্রতিবছর এই নামযজ্ঞের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীরা কীর্তন পরিবেশনা করেন। পৃথিবী ও দেশের এই কঠিন সময়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনাই যজ্ঞের উদ্দেশ্য।

সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রণয় কুমার বর্মন (জগো) জানান, অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় ভক্তবৃন্দ সহয়তা করেছেন ,এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হবে আশা রাখে।

রাধাগোবিন্দ ঠাকুর মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক পলান ঘোষ বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই হরিনাম সংকীর্তন উপস্থিত হয়ে পবিত্র অনুষ্ঠানটিকে উৎসবে পরিণত করেছে।
রাধাকৃষ্ণের চিরন্তন প্রেম, বিরহ, মিলন এবং শ্রীচৈতন্যের গৌরলীলা স্থানীয় ভক্তবৃন্দকে বিমোহিত করেছে।

ফন্ট সাইজ:
1Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top