রাজশাহীতে শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ সাউথ স্কুল এন্ড কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে নগরীর সিএন্ডবি মোড়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখায় নানা আয়োজনে এ দিবস উদযাপন করা হয়। এদিন সকালে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ সাউথ স্কুল এন্ড কলেজের নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাজমা রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বিরাজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে আয়োজক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির তালাইমারি শাখার সহকারী অধ্যক্ষ ফাতেমা জোহরা দোলন ও আহবায়ক হিসেবে উপশহর শাখার সহকারী অধ্যক্ষ তুহিনা পারভীর ইলা বক্তব্য প্রদান করেন। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিবেশন হয় জাতীয় সংগীত, দেশাত্ববোধক গান, কবিতা ও নৃত্য। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকমন্ডলী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ সাউথ স্কুল এন্ড কলেজের নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাজমা রহমান বলেন, আমাদের দেশের সবকিছুই সম্পদ; খনিজ সম্পদ, বায়বীয় সম্পদ, মানবসম্পদ ইত্যাদি সম্পাদ রয়েছে। তবে মানবসম্পদ সবচেয়ে দামি। আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছি, তবে এবার আমাদেরকে স্বনির্ভর হতে হবে। আমাদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হলে, বাংলাদেশকে পেছনে তাকাতে হবে না। বাংলাদেশকে প্রাচ্যে পাশ্চাত্যে তাকাতে হবে না। দায়িত্বশীলতা থেকে স্বনির্ভরতার বাংলাদেশ গড়তে হবে। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি পর্যায়ের সকলকে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের এই শিশুদের মধ্যে থেকে তৈরি হবে স্বনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিনিধি। আমাদের সন্তানরা এগিয়ে গেছে। শিশুরা চিন্তা করতে পারছে, তারা চিত্রাঙ্গন করে সুন্দরভাবে বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তুলছে। এখন শুধু সামনে আগাতে হবে৷ স্বাধীনতার মোড়ক থেকে বেরিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সকলকে হাতে হাত ধরে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন ইঞ্জিনিয়ার নাজমা রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বিরাজ আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা অর্জন হয় রক্ত দিয়ে, আর রক্ষিত হয় দায়িত্ব দিয়ে। নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে সকল পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। ইতিহাস কথা বলে। বাঙালি জাগ্রত আছে। স্বাধীন দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক এক একজন সৈনিক। এজন্যই ২০২৬ সালে স্বাধীনতা এত সুন্দর। সততা, বিশ্বাস ও দেশপ্রেম দিয়ে অতন্দ্র প্রহরীর মতো যে কোনো পরিস্থিতিতে দেশ রক্ষার ব্রত পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার আহাবানও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।