চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নূরানী মাদ্রাসার প্লে শ্রেণির ছাত্রী শরিফা খাতুনের হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ী বাজারে বাঙ্গাবাড়ী দাঁড়িপাতা নূরানী মাদ্রাসার আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। এতে তার সহপাঠী, শিক্ষক, অভিভাবকেরা ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শরিফা খাতুন গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের যুগিবাড়ী বুড়িতলা গ্রামের শহীদুল ইসলামের মেয়ে ও বাঙ্গাবাড়ী দাঁড়িপাতা নূরানী মাদ্রাসার প্লে শ্রেণির ছাত্রী। শুক্রবার ৩ মার্চ বিকেলে তার ফুফুর বাসা একই উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের মকরমপুর বেড়াতে এসে বিকেল ৪টার দিকে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরিবারের লোকজন, আত্মীয় স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শরিফা খাতুনের নানা আব্দুল করিম শনিরবার ৪ এপ্রিল গোমস্তাপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন। গোমস্তাপুর থানা পুলিশ সাধারণ ডাইরির সূত্র ধরে একই উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফার আপন দুলাভাই অন্তর আলী (২৫) কে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সে নিজ হাতে হত্যা করে মকরমপুর নাদেরাদের পার্শ্ববর্তী ধান খেতে ফেলে শরিফার লাশ পেলে রেখেছে। নিখোঁজের দুই দিন পর ধান খেত থেকে শরিফার পচনশীল লাশ গোমস্তাপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাঙ্গাবাড়ী দাঁড়িপাতা নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম, বাঙ্গাবাড়ী ইউনুস স্মরণী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বুলবুল, বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারিকুল ইসলাম সাদ্দাম, ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম, সমাজ সেবক আব্দুল গনি মন্ডল, আনারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন, অত্র মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রী ও এলাকার সচেতন মহাল প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘সারাদেশে শিশুদের ওপর যেভাবে পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে, তা সমাজের চূড়ান্ত নৈতিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়বে। বক্তারা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম জানান, শরিফা খাতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত তার আপন দুলাভাই অন্তর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।