সকল মেনু

কবিতা: মুক্তির তূর্যধ্বনি: ঈদ

মুক্তির তূর্যধ্বনি: ঈদ

— ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক জহির

ওই দেখ—আকাশের বুকে বাঁকা চাঁদ, তূর্য তার বিদ্রোহী,
নিস্তব্ধ রাতের বুক চিরে ডাকে—জাগো মানব, হও নির্ভয়ী!
রক্তে জ্বলে তপঃঅগ্নি, প্রাণে ঝঞ্ঝার ঢেউ,
সিয়ামের দীপ্ত শিখা ভেঙে দেয় দাসত্বের সব অন্ধকার।

জীর্ণ সব বিভেদের প্রাচীর ভাঙো আজ নির্ভয়ে,
এক কাতারে দাঁড়াক মানুষ—ক্ষুধার্ত আর ধনী-গরিব একসাথে।
মসজিদের সেই সারিবদ্ধতা নিছক কোনো রীতি নয়,
এ মানবতার জাগ্রত মিছিল, সাম্যের জ্বলন্ত স্রোত বই।

শুভ্র বসন শুধু নয় আজ পবিত্রতার চিহ্ন,
এ বিদ্রোহের পতাকা—অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ের স্মারক।
জাকাতের অন্নে জ্বালো ন্যায়ের দীপশিখা,
ক্ষুধার মরুভূমিতে বইুক সমতার স্নিগ্ধ স্রোত।

হে মানুষ! তোর অন্তরে ধ্বনিত স্রষ্টার বজ্রবাণী,
তুই কেন আবার বিভেদ গড়িস? তুই-ই তো মহাজ্ঞানী!
ধর্ম নয় কোনো শৃঙ্খল—ধর্ম মুক্তির গান,
তকবিরের ধ্বনিতে আজ কাঁপুক ধরা, জাগুক মহামানব প্রাণ।

ভালোবাসা দুর্বল নয়—এ শক্তিরই জোয়ার,
ন্যায়ের অগ্নিঝড়ে ভেঙে যাক হিংসার অন্ধকার।
অত্যাচারের সিংহাসন চূর্ণ কর দৃপ্ত হাত দিয়ে,
সত্যের দীপ্ত তলোয়ার জ্বলে উঠুক অশুভের রাতে।

মোনাজাত আজ শুধু নয় নীরব ক্ষমার প্রার্থনা,
এ শপথ—অন্যায় দেখিলে হবে প্রতিরোধের ঘোষণা।
ঈদ মানে শুধু হাসি নয়—এ জাগরণের মহাডাক,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অটল অঙ্গীকার থাক।

ওই চাঁদ, ওই নীল আকাশ—সাক্ষী আমাদের প্রতিজ্ঞার,
শৃঙ্খল ভেঙে গড়বো আমরা সাম্যের নতুন ধারা।
গর্জে ওঠো! উচ্চারণ কর নবযুগের আহ্বান—
ঈদ মানে মুক্তি! ঈদ মানে—মানবতার জয়গান!

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top