কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরিক্ষা ছিল মহিউদ্দিনের শেষ সুযোগ। ভোর বেলাতেই চট্টগ্রাম থেকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নগরীর তীব্র যানজটে শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল তার বহুদিনের স্বপ্ন।
মহিউদ্দিন চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তিনি একজন সেকেন্ড টাইম পরীক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতির পর এবছরই ছিল তার শেষ সুযোগ। সকাল ১১টা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হলেও তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান ১১টা ২৪ মিনিটে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। তার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ।
গত বছরও মহিউদ্দিন দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। এবছর নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলেন—এই ভেবে যে কুবির ‘বি’ ইউনিটই হবে তার শেষ আশ্রয়। কিন্তু সেটিও অধরা থেকেই গেল। ফলে এই ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নের ইতি টানতে হলো তাকে।
কথা বলতে গিয়ে মহিউদ্দিন বলেন, “ভোরে বাসা থেকে বের হয়েছি অনেক স্বপ্ন নিয়ে। পরিক্ষার প্রস্তুতিও অনেক ভালো ছিলো, জানতাম আজই আমার শেষ পরীক্ষা। কিন্তু রাস্তায় এমন যানজট হবে, তা কল্পনাও করিনি। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য আমি কেন্দ্রে ঢুকতে পারলাম না। এতদিনের কষ্ট, পড়াশোনা সবকিছু যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। কেন্দ্র প্রধান চাইলে শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা না করে আমাকে মানবিকতার দিক থেকে পরিক্ষা লয় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে পারতো। এখন মনে হচ্ছে, আমার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শুধু স্বপ্নই হয়ে রইল।”
পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকা মহিউদ্দিনের সেই মুহূর্তটি যেন অনেক শিক্ষার্থীরই বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। একটি যানজট, কয়েক মিনিটের দেরি আর তাতেই থেমে গেল বছরের পর বছরের সাধনা।
মহিউদ্দিনের গল্প আমাদের ভর্তি পরীক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র যেখানে সামান্য দেরি কখনো কখনো পুরো জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।