নাটোরের লালপুরে শ্রী শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোঁসাই আশ্রমের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে হয়রানি এবং একপেশে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরে অবস্থিত শ্রী শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোঁসাই আশ্রম চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন আশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার কর্মকার।
তিনি বলেন, বাংলা ১১০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৩২৮ বছরের প্রাচীন এই আশ্রমটি শ্রী শ্রী ফকির চাঁদ বৈষ্ণব গোঁসাইয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আশ্রমে নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় লালপুর উপজেলার মনিহারপুর গ্রামের মৃত সুধির কুমার মণ্ডলের ছেলে উত্তম কুমার মণ্ডল গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে লালপুর আমলি আদালতে সিআর মামলা নং–৭৫৬/২০২৫ (লাল) দায়ের করেন। ওই মামলায় আশ্রম কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার কর্মকার ও প্রধান সেবাইত পরমানন্দ সাধুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন আশ্রম কর্তৃপক্ষ।
এ মামলাকে কেন্দ্র করে গত ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে বিভ্রান্তিকর ও একপেশে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আশ্রমের আয়-ব্যয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয় এবং প্রতিবছর নবান্ন অনুষ্ঠানে ভক্তবৃন্দ ও বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে হিসাব উপস্থাপন করা হয়।
আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, মামলার বাদী উত্তম কুমার মণ্ডল নিজেকে আশ্রমের সভাপতি দাবি করলেও বাস্তবে তিনি কোনোভাবেই আশ্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত নন। এ বিষয়ে আশ্রম কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার কর্মকার বাদী হয়ে লালপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত ১৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে উত্তম কুমার মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীদের আশ্রম পরিচালনা, নতুন কমিটি গঠন এবং আশ্রমের শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে বাধা প্রদান থেকে বিরত থাকতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে উত্তম কুমার মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আশ্রম এলাকায় প্রবেশ না করার মুচলেকা দেন। এরপরও আদালতের আদেশ অমান্য করে গত ১১ নভেম্বর ও ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আশ্রম দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া উত্তম কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নাটোর আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি GR-৬৭/২৫ (লাল) মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন। পাশাপাশি রাজশাহীর পুঠিয়া থানায় দায়ের করা একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আশ্রম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত ও নিরপেক্ষ তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।