সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রাইজুল (৭৪) কে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। সেখানে গত (৪ এপ্রিল) তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গত ৩০ মার্চ রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে, আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
এরপর গত (৪এপ্রিল) শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এরপর ওইদিন রাতেই তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলে, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
তার ভাতিজা আবু বক্কর জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। এমনকি তাঁর চাচার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধও ছিল না। তিনি বাড়িতেই থাকতেন। ঈদের আগের দিন ইফতারের অনুমান দশ মিনিট পূর্বে পুলিশ তাকে বাড়ি গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজুল ইসলাম উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দীর্ঘদিন তিনি বেলজিয়ামে ছিলেন। তাঁর তিন ছেলে ও দুই মেয়ের সবাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। গত ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হনা।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মাইন উদ্দিন ভূঁইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিয়াজুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিলেট কারা কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে রিয়াজুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।