বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া নারী শ্রমিকদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। ২০২২ সালের কভিড সংক্রমণের পর থেকে বাংলাদেশের নারীদের বিদেশ যাত্রার হার টানা গত তিন বছরে কমেছে। তবে গত দুই দশকের মধ্যে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে বেশি ৪০ জন নারী শ্রমিক পাকিস্তানে গিয়েছেন। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী এসব তথ্য জানা যায়।
তথ্য বলছে, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৪ সালে ২০ বছরের মধ্যে চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ৪০ জন নারী শ্রমিক পাকিস্তান গিয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছর নারীরা দেশটিতে কাজের জন্য যাননি। অন্যদিকে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি যে দেশে যান সেই সৌদি আরবে যাওয়ার হার গত দুই বছরে কমেছে। আগামী সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে নারী শ্রমিকের যাত্রা আরো কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরব এখন দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো থেকে নারী শ্রমিক নিচ্ছে। আবার নারী শ্রমিকদের ওপর হওয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেও নারী শ্রমিকরা এখন সৌদিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব থেকে যে সময়ের মধ্যে গৃহকর্মী চায় বাংলাদেশ থেকে সে সময়ে পাঠানো যাচ্ছে না। আবার দেশের নারী শ্রমিকদের ভাষাগত দক্ষতা বেশি ভালো নয়।
তারা ভালো প্রশিক্ষণপ্রাপ্তও নয়। বিগত বছরগুলোতে নারী শ্রমিকদের ওপর নানানরকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন কারণে নারী শ্রমিকরাও সৌদি আরবে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দেশ থেকে মোট ১০ হাজার ৩৬১ জন নারী বিদেশে যান। এর আগের বছর ২০২৩-এ যান ৬১ হাজার ১৫৮ জন আর ২০২২-এ যান ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬৬ জন। অর্থাৎ করোনার পর নারী শ্রমিকদের বিদেশ যাত্রার হার কমেছে।
এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ১ লাখের ওপর প্রতিবছর নারী শ্রমিকরা বিদেশ যেতেন। ২০২০ এবং ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২১ হাজার ৯৩৪ জন এবং ৮০ হাজার ১৪৩ জন। বিএমইটি-এর তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে যথাক্রমে ৪ হাজার ৬৩৯ এবং ৩ হাজার ৩৪১ জন নারী শ্রমিক যান।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, হংকংয়ের সঙ্গে আমাদের এমইউ স্বাক্ষর আছে। সংখ্যায় কম হলেও যে নারী শ্রমিকরা হংকং যাচ্ছেন তারা শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষিত। গৃহকর্মী হিসেবে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের জন্য এক সময় বড় বাজার ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর সৌদি আরব সবসময় নারী শ্রমিকদের জন্য বড় বাজার ছিল। তবে সৌদিতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু কারণ আছে। আমরা আশঙ্কা করছি, সৌদি আরবে আসছে দিনে বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিকের যাওয়ার হার আরো কমে যাবে।
অর্ডার পাওয়ার পর রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রশিক্ষণ দিয়ে সৌদি পাঠাতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। কিন্তু এখন সৌদি আরব আরো কম সময়ে কর্মী পেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে নারী শ্রমিক নিচ্ছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।