নিয়োগ বানিজ্য, অনিয়ম, দূর্নীতিসহ নিয়মবহির্ভতভাবে বিদ্যালয় পরিচালনার অভিযোগে, রাজশাহীর বাঘায় বাউসা ইউনিয়নের হারুন-অর-রশিদ শাহ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সোমবার (২৭ জানুয়ারী) বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালাও লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে তালা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
জানা যায়, রোববার(২৭-০১-২০২৫) বিদ্যালয় সংলগ্ন বাউসা বাজার এলাকায় প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সেখানে বক্তব্য দেন,বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম(বাউসা ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট এর সুপানিটেনডেন্ট), সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ এনামুল হক।
সোমবার(২৭-০১-২০২৫) একই দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। লাগানো তালা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। প্রায় ১ঘন্টা পর তালা খুলে দেওয়া হয়।
হারুন-অর-রশিদ শাহ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জানান, তালা লাগানোর পরে- বিএনপির নেতাকর্মী ও শিক্ষাথীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। উতপ্ত পরিস্থিতে বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত শীতকালিন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সাবজোন খেলাধুলা বন্ধ করে দেন খেলা পরিচালনা কমিটি।
সাবজোন খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি,বাউসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক একাব উদ্দীন জানান,পরে আগত শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসের ভিতরে অবস্থান নেন। সেখান থেকে রেজাউল করিম,হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক ইউনুস আলীকে লাঞ্চিত করে বের করে দেন জানান।
রেজাউল করিম বলেন, প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান,বিগত ১৫ বছরে টাকার বিনিময়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগসহ নিয়োগ বানিজ্য, অনিয়ম, দূর্নীতি, নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন। ওই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের দাবি করা হয়। এতে প্রধান শিক্ষক রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করা হয়। পরের দিন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে লাগানো তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত খাতুন ও সোহান হোসেন জানান,শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে তালা লাগানোর প্রেক্ষিতে বিক্ষোভ করেছেন।
প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এডহক কমিটির সভাপতি পদে বিএনপির সমর্থিত তিনজন ও জামায়াতের সমর্থিত একজন আবেদন করেছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের তিনজনের নাম শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণের দাবি করে, জামায়াতের আবেদনকারীর আবেদন যুক্তিযুক্ত হলে তার নামও বোর্ডে প্রেরনের কথাও বলেন। প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য,তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় বিক্ষোভ-সমাবেশ ও তার কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। তবে তালা লাগানোর সময় তার কক্ষে ছিলেন না জানিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন,তালা লাগানোর বিষয়ে জানতে পেরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে তালা খুলে দিয়েছে। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফম আশাদুজ্জামান বলেন,পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।