নাটোরের লালপুর উপজেলায় রক্তের অভাবে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক প্রসূতি মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লালপুর থানা পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক পুলিশ সদস্যের দেয়া রক্তে মা বিপদমুক্ত হলেও দুর্ভাগ্যবশত ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই গর্ভে মারা গেছে নবজাতকটি।
জানা গেছে, লালপুর উপজেলার একটি ক্লিনিকে একজন প্রসূতি নারীকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘এ পজেটিভ’ রক্তের প্রয়োজন পড়ে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও স্বজনরা রক্ত সংগ্রহ করতে না পারায় অপারেশন শুরু করা সম্ভব হচ্ছিল না এবং সময়ের সাথে সাথে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
এমন সংকটময় মুহূর্তে প্রসূতির স্বজনরা উপায়ান্তর না দেখে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পরপরই ওসি তার সহকর্মীদের মধ্যে রক্তদাতার খোঁজ করেন। ওসির আহ্বানে তাৎক্ষণিক সাড়া দেন থানায় কর্মরত কনস্টেবল (৭৩৩) মো. মমিনুজ্জামান।
পরবর্তীতে কনস্টেবল মমিনুজ্জামান দ্রুত ক্লিনিকে গিয়ে স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন। প্রয়োজনীয় রক্ত পাওয়ার পর চিকিৎসকরা ওই নারীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন। তবে মায়ের গর্ভেই মারা যায় নবজাতক। বর্তমানে প্রসূতি মা চিকিৎসাধীন এবং বিপদমুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের এই মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে প্রসূতির স্বজন শাজেদুল ইসলাম বলেন, “রক্তের অভাবে আমরা যখন দিশাহারা হয়ে পড়েছিলাম, তখন পুলিশ ভাইয়েরা এগিয়ে এসেছেন। আমাদের সন্তানকে আমরা হারিয়েছি, কিন্তু তাদের কারণে অন্তত মা বেঁচে আছেন। আমরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেও জনগণের পাশে থাকে। খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের সদস্য রক্ত দিতে গিয়েছেন। মা বেঁচে আছেন এটা স্বস্তির, তবে নবজাতকের মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করেছে।”
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।