নাটোরের চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকের স্বপ্ন ভেসে গেছে অকাল বন্যার পানিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে আগাম বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় সদ্য পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শত শত কৃষক পড়েছেন মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে।
গণমাধ্যমে কৃষকদের এই দুর্দশার চিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্ব-উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন।
আজ শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেল ৪টায় উপজেলার খুবজীপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ৪০০ জন বন্যাকবলিত কৃষকের মাঝে ৩০ কেজি করে মোট ১২ টন চাল বিতরণ করা হয়। শৃঙ্খলাপূর্ণ ও স্বচ্ছ এ কার্যক্রমে উপস্থিতছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ জানান, “এই সংকটময় সময়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
চাল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভুমি) আসাদুল ইসলাম , প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ , খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন, খুবজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পুরো আয়োজন ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ ও স্বচ্ছ।
সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কৃষকরা। তবে অনেকেই দাবি করছেন, এককালীন চাল সহায়তা ভালো উদ্যোগ হলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। তারা দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা ও কৃষিঋণ পুনঃতফসিলের দাবি জানান।