এবারের কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার দাবি, ঈদে সরকার নির্ধারিত দামেই পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং কিছু নিউজ মিডিয়ায় এ ব্যাপারে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সোমবার (৯ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এই কথা বলেন। একটি বিদ্যালয়ের ৭০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি এদিন শ্যামনগরে আসেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে সাড়ে সাত লাখ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ করা হয়েছিল। এছাড়া ৮৬ হাজার কসাইকে সরকার ট্রেনিং দিয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, চামড়া শিল্পে ২১৫ কোটি প্রণোদনার টাকা সরকার ঈদের আগেই ছেড়ে দিয়েছিল। চাহিদার জন্য ওয়েট ফুল চামড়া এবং সাদা চামড়া রফতানির জন্য ছাড় দিয়েছে। এখন জনগণ নিয়ম মেনে একত্রিত হয়ে মজুদ বা সংরক্ষণ করলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের আরও বেশি পাবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করে, কাঁচা চামড়া যদি লবণ মেশানো না হয়, তাহলে তো সেগুলো পচে যাবে। তার কোনো দাম নেই।
এর আগে বেলা ১১টায় বাণিজ্য উপদেষ্টা সুন্দরবন ঘেষা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
এ সময় উপদেষ্টা বলেন, বিগত দিনে আমাদের এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে অস্থিরতা-নৈরাজ্যের কারণে জ্ঞান পেছনের দিকে চলে গিয়েছিল। নৈরাজ্য এবং সমস্ত রকম অন্যায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররমের মতো জায়গার খতিব পালিয়ে গেছেন। সেখানে তো মানুষের জীবনে কোনো প্রভাব বিস্তার করে না, সেটা ছিল সম্মান ও ইজ্জতের জায়গা। কিন্তু তারপরও সেখান থেকে তিনি পালিয়ে গেছেন।
রাষ্ট্রের সব জায়গা ধ্বংস করা হয়েছে মন্তব্য করে বাণিজ্য আরও বলেন, দেশে দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছিল। দেশের কিছু মানুষকে হয়রানি করে অসম্মান করা হয়েছিল। আজ তারা সম্মানিত হচ্ছেন। কিন্তু যারা সেদিন অসম্মানিত করেছিল তারা এখন জেলখানায় রয়েছেন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন।
৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
এ উপলক্ষে এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত মিলনমেলায় সাবেক শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকে সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সিদ্দিক জোবায়ের, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ আহমেদ, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মদ আসমা বেগম, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ, পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল মজিদ, প্রধান শিক্ষক মো. শামীম হোসেন প্রমুখ।
আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।
https://www.bangladeshbela.com/2025/06/09/economics-business/newsid-8296/© বাংলাদেশবেলা | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ১৯-০৬-২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ