বাংলাদেশবেলা
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

আব্দুলপুর জংশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি

লেখক: লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুর–বাগাতিপাড়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে আব্দুলপুর রেল জংশন স্টেশনে একাধিক আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে লালপুর–বাগাতিপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল-এর কাছে।

চিঠিতে বলা হয়, লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার মানুষের প্রধান ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম হলো রেলপথ। এই দুই উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আব্দুলপুর রেল জংশন দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।

শুধু লালপুর ও বাগাতিপাড়া নয়, পাশের বাঘা উপজেলা, চারঘাট উপজেলা ও বড়াইগ্রাম উপজেলা-এর বাসিন্দারাও এই স্টেশন ব্যবহার করেন। স্টেশনটির আশপাশে রয়েছে আব্দুলপুর সরকারি অনার্স ও ডিগ্রি কলেজ, করিমপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আব্দুলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ। এছাড়া রয়েছে কাদিরাবাদ সেনানিবাস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল ও গ্রীনভ্যালী পার্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আব্দুলপুর রেল জংশনের ওপর দিয়ে বহু আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্রেন এখানে থামে না। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত যাত্রী এবং এক ট্রেন থেকে নেমে অন্য ট্রেন ধরতে ইচ্ছুক যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নোক্ত আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর আব্দুলপুরে যাত্রাবিরতি অত্যন্ত জরুরি—
মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫–৭৫৬)
রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭–৭২৮)
টুংগীপাড়া এক্সপ্রেস (৭৮৩–৭৮৪)
কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস (৭৯৭–৭৯৮)
সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭–৭৪৮)
একতা এক্সপ্রেস (৭০৫–৭০৬)

চিঠিতে আরও বলা হয়, সকালের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাটোর হয়ে পার্বতীপুর অভিমুখে যাওয়া কোনো ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একাধিক ট্রেনও এখানে থামে না। একইভাবে খুলনা ও রাজবাড়ী–ফরিদপুর অভিমুখী ট্রেনের ক্ষেত্রেও যাত্রাবিরতির অভাব রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, আব্দুলপুর রেল জংশনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হলে লালপুর, বাগাতিপাড়া ও আশপাশের অন্তত পাঁচটি উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আঞ্চলিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

খোলা চিঠিতে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে এলাকাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তাঁদের এই যৌক্তিক ও সময়োপযোগী দাবি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে।

সম্পাদক: মো: জামিরুল ইসলাম

প্রকাশক: রেজাউল করিম শামীম

QR Code

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

আপনার মোবাইল দিয়ে এই QR কোডটি স্ক্যান করে বিস্তারিত খবরটি অনলাইনে পড়ুন।

https://www.bangladeshbela.com/2026/02/27/bangladesh/newsid-17317/

© বাংলাদেশবেলা | প্রিন্ট/ডাউনলোড: ১৭-০৬-২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ